একটি পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা

একটি পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা
Written by IQRA Bari

পাহাড় ভ্রমণ আমাদের জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে আমরা ভুলে যাই সকল দুঃখ, কষ্ট। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রস্তুতিতে পাহাড় ভ্রমণ রচনা খুবই কমন একটি বিষয়। একটি পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরকে শিখে নেওয়া জরুরি।

তৃতীয় শ্রেণি থেকে শুরু করে ক্লাস নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে প্রবন্ধ রচনা অনুশীলনে পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতার উপর রচনা লিখতে বলা হতে পারে। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী পাহাড় ভ্রমণের এই অভিজ্ঞতাটি উত্তরপত্রে লিখে সর্বোচ্চ নম্বর নিশ্চিত করতে পারবে।

একটি পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনা

ভূমিকা:

পাহাড়ের কোলে ঘেরা ছোট্ট শহর দার্জিলিং, যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব নিদর্শন। মনোরম পরিবেশ, মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এবং মনোরম আবহাওয়ায় ভরা এই শহরটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। নীল আকাশ, সবুজ পাহাড়, মেঘের ভেলা, ঝর্ণার শব্দ – এই সব মিলিয়ে এক অপার্থিব সৌন্দর্য্য।

দার্জিলিংকে পাহাড়ের রানী বলা হয়। গত গ্রীষ্মে আমার বন্ধুদের সাথে দার্জিলিং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। ট্রেনে করে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে আমরা টয় ট্রেনে করে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথে কখনো ঘন সবুজের সমারোহ, কখনো মেঘের খেলা, আবার কখনো চা-বাগানের সারিবদ্ধ সারির মনোরম দৃশ্য মনকে করে তুলেছিল অভূতপূর্ব।

দার্জিলিং-এর সৌন্দর্য:

দার্জিলিং পৌঁছে আমরা মুগ্ধ হয়ে গেলাম শহরের অপূর্ব সৌন্দর্যে। চারপাশে উঁচু  উঁচু পাহাড়, ঘন সবুজ বনানী এবং দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘার তুষারাবৃত চূড়া – যেন এক অপার্থিব সৌন্দর্যের জগৎ।

দার্জিলিং তার মনোরম চা-বাগানের জন্য বিখ্যাত। সবুজের সমারোহে ঢাকা পাহাড়ের চালে চালে ছড়িয়ে থাকা চা-বাগান মন ছুঁয়ে যায়। দার্জিলিং এর চারপাশে উঁচু পাহাড়ের সারিবদ্ধতা যেনো ভিন্ন রকম এক আকর্ষণ।

দার্জিলিং ভ্রমণের বড় একটি আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা। বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বত কাঞ্চনজঙ্ঘা দার্জিলিং থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তুষারাবৃত চূড়া যেন আকাশকে ছুঁয়ে ফেলছে।

দার্জিলিং-এর পাহাড়ে ঘন বনানী রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, লতা-পাতা, এবং বন্যপ্রাণী এই বনানীকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। দার্জিলিং-এর বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় ঝর্ণা দেখা যায়। ঝর্ণার জলের শব্দ মনকে করে তোলে শান্ত ও প্রশান্ত।

দার্জিলিং-এর আকর্ষণ:

দার্জিলিং-এ দেখার মতো অনেক আকর্ষণীয় স্থান রয়েছে। টাইগার হিল থেকে সূর্যোদয়, ঘুম মোনাস্ট্রি, বাতাসিয়া লুপ, জাপানি মন্দির, পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক, রক গার্ডেন, চা-বাগান – সবকিছুই মন ছুঁয়ে যায়।

দার্জিলিং-এর পাহাড়:

দার্জিলিং-এর সবচেয়ে বড় পাহাড় হলো কাঞ্চনজঙ্ঘা। এটি বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বত। তুষারাবৃত চূড়া স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্য সেরা সময় হলো শীতকাল।

গ্রীষ্মকালে দার্জিলিং ভ্রমণে বিভিন্ন বিষয় মাথায় রাখতে হবে। পাহাড়ের উপর প্রচণ্ড গরম, হঠাৎ বৃষ্টি এবং প্রচণ্ড বাতাসে ঠান্ডা আবহাওয়ায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।

দার্জিলিং-এ পাওয়া যায়:

দার্জিলিং তার চায়ের জন্য বিখ্যাত। এখানে বিভিন্ন ধরণের চা পাওয়া যায়। দার্জিলিং-এর স্থানীয় খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু। স্থানীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে মোমো, থুকপা, এলেমো, চাউমিন ইত্যাদি। দার্জিলিং-এর হস্তশিল্প বেশ জনপ্রিয়। এখান থেকে থাংকা, কার্পেট, লেপচা পোশাক ইত্যাদি কিনতে পারবেন।

উপসংহার:

দার্জিলিং ভ্রমণ আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দার্জিলিং পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

শিক্ষার্থীরা, তোমাদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যদি একটি পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনার কথা বলা হয়, তবে তোমরা উপরোক্ত নিয়মটি ফলো করে পাহাড় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রচনাটি লিখে নিতে পারো।

Leave a Comment