ক্রিয়াপদ কাকে বলে? ক্রিয়াপদ কত প্রকার ও কি কি?

ক্রিয়াপদ কাকে বলে - ক্রিয়াপদ কত প্রকার ও কি কি
Written by IQRA Bari

বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াপদের অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এটিকে বাংলা বাক্যের প্রাণস্বরূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আপনি যদি জানতে চান ক্রিয়াপদ কাকে বলে এবং ক্রিয়াপদ কত প্রকার ও কি কি? তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজ আমি ক্রিয়াপদের বিভিন্ন বিষয়বস্তু আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। বাংলা সাহিত্যের সাধারণ পাঠকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও আর্টিকেলটি ফলো করতে পারো।

কেননা, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ক্রিয়াপদ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে। যেমন – উদাহরণসহ ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো, বাংলা ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ দেখাও, বাংলা ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করো ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ সাধু ও চলিত ভাষার পার্থক্য (উদাহরণ সহ)।

যাইহোক, ক্রিয়াপদের প্রকারভেদ এবং সহজ ভাষায় ক্রিয়াপদের উদাহরণ সহ নিচে উল্লেখ করা হলো। চলুন ক্রিয়াপদের আদ্যোপান্ত জেনে নেওয়া যাক।

ক্রিয়াপদ কাকে বলে?

বাংলা ব্যাকরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো ক্রিয়াপদ। যে কোনো ধরণের বাংলা বাক্য তৈরির জন্য ক্রিয়াপদের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশী। তাই ক্রিয়াপদকে বাংলা বাক্য তৈরিতে বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।

ক্রিয়াপদের সংজ্ঞাঃ যেসব শব্দ দ্বারা কাজ সম্পাদন করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে।

(১) ড. শাহজাহান মনিরের মতে, “যে পদ দ্বারা কোনো বিশেষকালে সম্পন্ন ক্রিয়া বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে।

(২) যে পদের সহায়তায় কোনোকিছু করা বা হওয়া অথবা কোনো কাজ বোঝায়, তাকে ক্রিয়াপদ বলে।

ক্রিয়াপদ কত প্রকার ও কি কি?

বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ক্রিয়াপদের শ্রেণিবিন্যাস হয়ে থাকে। ক্রিয়াকে প্রথমত দু’ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

(ক). ভাবের ওপর।
(খ). কর্মের ওপর।

(ক) ভাবের ওপর নির্ভর করে ক্রিয়াকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

  • (১) সমাপিকা ক্রিয়া,
  • (২) অসমাপিকা ক্রিয়া।

সমাপিকা ক্রিয়াঃ যে ক্রিয়ার দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকেই সমাপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন – আমি মসজিদে যাই। সে ওজু করতে গেছে।

অসমাপিকা ক্রিয়াঃ যে ক্রিয়ার দ্বারা বাক্যের অর্থ পরিপূর্ণরূপে প্রকাশ পায় না, তাকেই অসামপিকা ক্রিয়া বলে। যেমন- আমি ভাত খেয়ে।

(খ). কর্মের ওপর নির্ভর করে ক্রিয়াকে তিন ভাগে ভাত করা যায়। যেমন-

  • (১) সকর্মক ক্রিয়া,
  • (২) অকর্মক ক্রিয়া,
  • (৩) দ্বিকর্মক ক্রিয়া।

সকর্মক ক্রিয়াঃ যে ক্রিয়ার কর্ম থাকে, তাকেই সকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন – আজাহারুল কানামাছি খেলে। সাইফুল বাড়ি যায়।

অকর্মক ক্রিয়াঃ যে ক্রিয়ার কর্ম থাকেনা, তাকে অকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন – আহাজারুল খেলে। সাইফুল যায়।

দ্বিকর্মক ক্রিয়াঃ যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে, তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। যেমন- আজাহারুল ভাইকে চিঠি লিখেছে।

এগুলো ছাড়াও আরও দুটি ক্রিয়া রয়েছে। যথা –

  • (১) প্রযোজক ক্রিয়া,
  • (২) মিশ্র বা যৌগিক ক্রিয়া।

প্রযোজক ক্রিয়াঃ যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনায় অন্যের মাধ্যমে শেষ হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। যেমন – ভাই বোনকে নদী দেখাচ্ছে।

মিশ্র বা যৌগিক ক্রিয়াঃ অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকেই মিশ্র বা যৌগিক ক্রিয়া বলা হয়। যেমন- লোকটি চলে গেল।

বাক্য তৈরিতে ক্রিয়াপদের গুরুত্ব

ক্রিয়াপদকে বাক্যের প্রাণ বলা হয়। তাই বাক্য তৈরির জন্য ক্রিয়াপদের গুরুত্ব অপরসীম। যে কোনো ব্যক্য তৈরি করতে ক্রিয়াপদ ব্যবহার হয়।

আমরা সকলেই জানি, ব্যাকরণের মতে শব্দগুলো যখন বাক্যে ব্যবহার হয়,  তখন তা বিভক্তিযোগে পদ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বাক্যে এ পদগুলোতে যখন কোনোকিছু করা, হওয়া বা কোনো কাজ বোঝায়, তখন তাকে ক্রিয়াপদ বলা হয়।

আরও পড়ুনঃ বাংলা সমার্থক শব্দ – বাংলা প্রতিশব্দ (স্বরবর্ণ)।

ক্রিয়াপদ ছাড়া বাক্য গঠন করা অসম্ভব। তাই বাংলা বাক্যে ক্রিয়াপদের গুরুত্ব অত্যাধিক।

ক্রিয়াপদের গঠন প্রক্রিয়া

বাংলা বাক্য তৈরিতে ক্রিয়াপদের ব্যবহার অপরিহার্য। তাই বাংলা বাক্যে ক্রিয়াপদ গঠনের প্রক্রিয়া জেনে নেওয়া উচিত।

সমাপিকা ক্রিয়ার গঠন

সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক, অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে। ধাতুর সঙ্গে বর্তমান কাল, অতীত কাল বা ভবিষ্যৎকালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়।

সমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণঃ শাকিল আহমাদ ভাত খায় (সকর্মক ক্রিয়া, বর্তমান কাল)। নুসরাত জাহান সারাদিন ঘুমিয়েছিল ( অকর্মক ক্রিয়া, অতীত কাল)। আমি তোমাকে একটি কম্পিউটার গিফট করব (দ্বিকর্মক ক্রিয়া, ভবিষ্যৎ কাল)।

অসমাপিকা ক্রিয়ার গঠন

ধাতুর সাথে কালনিরপেক্ষ -ইয়া (য়ে), -ইতে (তে) অথবা -ইলে (লে) বিভক্তি যুক্ত হয়ে অসমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়।

অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণঃ মুখ ধুয়ে খাবার খাও। তাকে খুঁজে নিয়ে আস ইত্যাদি।

যৌগিক ক্রিয়ার গঠন

অসমাপিকা ক্রিয়ার পরে যা, পড়, উঠ, দেখ, ফেল, দি, লহ্, আস, তাক্ প্রভৃতি ধাতু থেকে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়ে উভয়ে মিলিতভাবে যৌগিক ক্রিয়া তৈরি করে এবং এসব যৌগিক ক্রিয়া বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুনঃ রিকশা ওয়ালার উত্তম চরিত্র (শিক্ষনীয় গল্প)

যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণঃ সমাপ্তি অর্থে – ট্রেন থেকে গেল। অবিরাম অর্থে- কবি লিখে যাচ্ছেন। ক্রমশ অর্থে- ভাত জুড়িয়ে যাচ্ছে। সম্ভাবনা অর্থে – এখন রেলগাড়িটি আসতে পারে।

উপসংহারঃ

ক্রিয়াপদ এর প্রকারভেদ সমূহ উপরিক্তরূপ। বাংলা ব্যাকরণে ক্রিয়াপদের প্রকারসমূহ এবং ভাষায় এর ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রিয় পাঠক, আমি চেষ্টা করেছি ক্রিয়াপদ কাকে বলে এবং ক্রিয়াপদ কত প্রকার ও কি কি তা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার জন্যে। আপনি যদি আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন, তবে আশাকরি বাংলা ব্যাকরণের ক্রিয়াপদ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পেরেছেন।

ক্রিয়াপদ নিয়ে যদি আপনার আরও কোনো প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করে বলবেন। আমরা আপনার প্রশ্ন ও মতামতকে বিনয়ের সাথেই গ্রহণ করবো। সবাইকে ধন্যবাদ।

About the author

IQRA Bari

আলোর অনুপস্থিতিতেই অন্ধকারের জন্ম। অথচ, অন্ধকারের কোন অস্তিত্ব নেই।
আমরা যদি আলোকিত হই, তবে সমাজে অন্ধকার বলতে কিছুই থাকবে না।

Leave a Comment